Breaking News
Home / শিল্প ও সাহিত্য / ঘাসের ঘটনাবলি

ঘাসের ঘটনাবলি



বাংলা প্যারিস ওয়ার্ল্ড: ২২/০১/২০২০

।। ছোটগল্প ।।
ঘাসের ঘটনাবলি
শিকদার মুহাম্মদ কিবরিয়াহ

একটি য়্যুকেলিপ্টাস বৃক্ষের নান্দনিক অবয়ব আমার প্রাত্যহিক প্রবণতাকে কী ভীষণভাবে পাল্টে দিয়েছিল, সে অবশ্য বেশ আগের কথা। তবু তা আমার নস্টালজিক অনুভবে সকালের সজীব সূর্যালোকের মতই মিষ্টি-প্রখর ঝলমলে। একটিমাত্র বৃক্ষ আশ্চর্য অনায়াসে বদলে দেয় আমার প্রতিদিনের দিনযাপনকে—সে এক বিস্ময় বৈকি। এমন অভিনব প্রেমে প’ড়ি নি আমি কখনও। আর এ প্রেমের বিমুগ্ধ টান আমাকে প্রকৃতির প্রিয়পাঠে এমনভাবে আত্মমগ্ন করে দিলো যে, আমার প্রতিবেশ বিস্ময়চোখে প্রত্যক্ষ করলো আমার চারপাশ ঘিরে আছে অসংখ্য বৃক্ষের ছড়াছড়ি। সবুজের স্ফূর্তিরাজ্য।

কিশোরী বৃক্ষের কচি কচি পাতায় ক্রমশ জমে-ওঠা প্রগাঢ় সবুজের মায়াবী অন্ধকার। আর আমি যেন সেই সবুজের সমাবেশে গর্বিত সম্রাট। আশ্চর্য আহ্লাদে গলে প’ড়ে কচি ডালপালাগুলো আমারই স্পর্শে। আমি স্পর্শ করি বিকাশমান সবুজকে। ঘ্রাণ নিই। অনুভব করি প্রাণের অভিনব স্পন্দন।


প্রায় দু’একর পরিমাণ আমার বিশাল বাড়িটা সবুজে বেনারশী পড়েছে। কিশোরী বৃক্ষরাজির নিচে সবুজ ঘাসের কার্পেট। এ কার্পেটে মুখ ঘসতে, নাক ডুবাতে ক্যামন ইচ্ছে করছে প্রতিবেশী গাইগরুদের, সে আমি ঠিকই টের পাই। কিন্তু অনুমতি তো দিতে পারি না। কারণ, গরু তো কোনদিন মানুষ হবে না। ঘাস খেতে এসে ছোট ছোট গাছগুলোর কি দশা হবে! তাই নিষেধাজ্ঞা সজোর বলবৎ। কিন্তু আমাকে অবাক করে দিয়ে চার/পাঁচ হাত লম্বা গাছগুলো রহস্যজনকভাবে পত্রহীন হয়ে যাচ্ছে কীভাবে বুঝতে পারি না! এতটুকু উচ্চতা ছাগলের নাগালের বাইরে। তাহলে? পাহারা দিতে থাকি।

আমার সযত্ন বৃক্ষের মুণ্ডুপাত হচ্ছে কীভাবে জানতে হবে আমাকে। অতঃপর একদিন বিস্ময় নিয়ে প্রত্যক্ষ করি আশ্চর্য দৃশ্যাবলি। দেখি, একটা কালো প্রাণী লাঠি সাইজের বৃক্ষটির দু’পাশে সামনের দু’পা দিয়ে জড়িয়ে ধরে গলাটা এমনভাবে বৃক্ষের একপাশে স্থাপন করেছে যেন বিনীত ভঙ্গিমায় কোলাকুলি করছে। ব্যাপার কি? হয়ত কাঁধে চুলকাচ্ছে, তাই ঘসছে। কিন্তু না চুলকানি নয়, একহারা বৃক্ষটিকে বুক আর পায়ের শৃঙ্খলবন্দি করে প্রাণীটা ক’কদম এগোলো। আর অমনি বৃক্ষটা সামনে কাৎ হয়ে এলো। বুকের আদরে বন্দি বৃক্ষের সবুজ ঝুপড়ি-মাথাটি এখন ছাগলটির সম্পূর্ণ নাগালে। তারপর আয়েশে সবুজ চিবিয়ে খাওয়া। খাওয়াপর্ব শেষে মুণ্ডুহীন বৃক্ষের অবমুক্তি, পূর্বস্থানে সরল-সটান দাঁড়িয়ে যাওয়া। আকাশমুখী। অবশ্য ঘটা করে দুটো ছাগল ধরে একরাত আটকে রেখে পরদিন মালিককে নিষেধ করে দেওয়ার পর থেকে ছাগলের উৎপাত বন্ধ হয়ে গেল।


আশপাশে চারদিকে এখন ঘাসের অভাব। ক্ষুদে চাষীদের খড়ের স্তুপও নিঃশেষপ্রায়। ধানকাটা না হওয়া পর্যন্ত এ-অবস্থা চলতেই থাকবে। গরু খাবে কী?সরকারি পাকারাস্তার পাশে আর জমির আইলে কত আর গজাবে ঘাস! তাই, ইদ্রিস মিয়া আর তোতা মিয়া’দের চোখগুলো চক চক করে তাকায় আমার বাড়ির ঘাসের গালিচায়। রাস্তার পাশেই বাড়ি। প্রতীক্ষায় থাকেন তারা—কখন আমি বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাব প্রতিদিনের মত। সুযোগ পাওয়ামাত্রই গরুগুলো নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে আমার সীমানায় প্রবেশ করে।

আমার অপ্রত্যাশিত উপস্থিতি গরুগুলোর দুর্ভোগ বয়ে আনে। অবোধ প্রাণীগুলোর পিঠে প’ড়ে প্রকল্পিত অবাধ্যতার শাস্তি। সাথে আমাকে শুনিয়ে-শুনিয়ে চলে গরুগুলোকে বকাঝকা। যেন দুষ্ট গরুগুলো মালিকের চোখ ফাঁকি দিয়ে চালাকি করে এখানে ঢুকে পড়েছে—এমন ভাবভঙ্গি করে ইদ্রিস মিয়া’রা পেটাতে-পেটাতে গরুগুলোকে বের করে নিয়ে যান। অবোধ প্রাণীগুলো মারের চোটে এদিক ওদিক দৌড়াতে থাকে। হতভম্ব গরুগুলো বুঝতে পারে না তাদের মনিবের কী হল! একটু আগে ঠেলে ঢুকিয়ে দিয়ে এখন কেন এ নিষ্ঠুরতা!


এভাবেই চলছিলো। আর গরুগুলোও আস্তে আস্তে ব্যাপারটিতে অভ্যস্ত হয়ে যায়। অভিজ্ঞতা থেকেই বুঝে নেয় তাদের ভূমিকা কী কখন? যখনই একটির পিঠে আঘাত প’ড়ে, অমনি সবগুলো দৌড়ে পালায়। আমাকে দেখলেই বুঝে ফেলে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নিচ্ছে। যেন মূহুর্তেই শব্দহীন সংকেত দেয়—”পালাও সাথীরা”! প্রাণীদের এ জাতীয় instinct বা প্রবণতাকে এরও আগে আমি বেশ উপলব্ধি করেছি। ছোটবেলা, যখন আমাকে বাড়ির ভেতর গরু চরাতে হত, তখন আমাদের একটি “মেনাগরু” মানে গাইমার্কা বলদ ছিল।

মেনা হলে কি হবে— আমাদের বাড়ির সামনে ঘাস ফলাবার যে-বিশেষ জমিটা ছিল, যেটিকে আমরা “ঘাসুনি” বলতাম— সে জমিটার দিকে ট্যারাচোখে তাকাত। আসলে এর চোখ ট্যারা ছিল না। ডাগর ডাগর বড়ো চোখ ছিল। সুযোগ পেলেই আশ্চর্যরকম দ্রুতগতিতে দৌড়ে নেমে যেত হাঁটুপানিতে ঘাস খেতে। টেরই পেতাম না। হঠাৎ খেয়াল হত অন্যগুলোর মাঝে এর অনুপস্থিতি। তখন আর অন্যকোথাও খোঁজার প্রয়োজন হত না। ঘাসুনিতেই পাওয়া যেত। ধরা পড়ার পর এর আচরণ ছিল লুকিয়ে রুইমাছের ভাজাপেটি খাওয়ার লোভ সংবরণ করতে না-পারা লক্ষ্ণী বউটির ধরা প’ড়ার মত। ম্রিয়মাণ। ঘাসমুখে উঠে আসতো কাছে পৌঁছার আগেই।

অন্যদিকে না পালিয়ে ঠিক সামনে এসে গলা লম্বা করে মুখ ও মাথা নিচু করে দিত—থুতনি মাটির সাথে মিশিয়ে এমনভাবে লজ্জিত ও বিনীত ভঙ্গিমায় পিঠটা মেলে দিত যে মনে হত বলছে,”মালিক! আমি অপরাধ করেছি! আমাকে মারুন।” কিন্তু এরপর কী আর মারা যায়? যায় না। আমিও পারতাম না।


ছাব্বিশ রমজান। সাহরি খেতে পারি নি ঠিকমত। আযানের মাত্র দশ মিনিট আগে ঘুম ভেঙ্গেছে সবার। এমনিতেই আনুষ্ঠানিক ইবাদতগুলোর মাঝে সিয়াম-সাধনাকেই আমার সবচেয়ে কঠিন মনে হয়। তার ওপর আজ আবার গরম পড়েছে। ক্ষুধা-পিপাসায় কাতর। তিরিক্ষি মেজাজ। বাংলোঘরের পাশে পায়চারি করছি। হঠাৎ দৃষ্টি প’ড়ে সামনে।

আকাশ থেকে পড়লাম যেন!একপাল গরু উৎসবে মেতেছে বাড়ির ভেতর। রক্ত ওঠে গেল মাথায়। দ্রুত তেড়ে গেলাম। হাতের কাছেই পেয়ে গেলাম একটি যুৎসই লাঠি। কাছাকাছি পৌছার আগেই অভ্যস্ত প্রাণীগুলো দিগ্বিদিক ছুটে পালালো। কিন্তু হতভাগিনী একটি কিশোরী গাই—সম্ভবত আজই প্রথম এসেছে-অনভিজ্ঞ, সবুজ তাজাঘাসে নাক ডুবিয়েছিল—আমার সীমাহীন আক্রোশের প্রতিদানটা ওর পিঠেই ধপাস করে পড়লো। অপ্রস্তুত-আকস্মিক আঘাত! টাল সামলাতে পারলো না। ছুটে পালাতে গিয়ে হুমড়ি খেয়ে পড়ে গেল। প্রায় দু’ফুট গভীর নালায়। পানি নিষ্কাশনের নালা। পড়লো তো পড়লো। আর ওঠে না। ব্যাপার কী? ততক্ষণে আমার দ্বিতীয় আঘাতটি আক্রোশমুক্ত হয়ে স্থির দাঁড়িয়ে আছে আমার কাঁধের ওপর। গাইটি প’ড়ে থেকেই মুখ ফেরাল আমার দিকে। টলোমল চোখ। আশ্চর্য সুন্দর ডোবা-ডোবা চোখ। অসহায় অভিব্যক্তি। আমাকে কাঁপিয়ে দিল। নির্বাক মুখটি যেন বলে ওঠে,”আমাকে আর মেরো না! আমি দাঁড়াতে পারছি না! “নিষ্ঠুর স্বামীর প্রহারে আহত বউটি যেমন কেঁদে ওঠে গেরস্ত ঘরে। আমার হাত ফসকে লাঠিটা প’ড়ে গেল। দ্রুত এগিয়ে যাই লাল গাইটার কাছে।সামনের পা দু’টো দুমড়ে আছে। পা’দুটো আড়াআড়ি নালাটির ভেতরে। হায় আল্লাহ! এটি তো আটকে আছে। পা কী ভেঙ্গেই গেছে! আমার ভেতরটা শুকিয়ে কাঠ। মস্তবড় অপরাধবোধ আমাকে ঘিরে ধরে। অবোধ প্রাণী! একি করেছি আমি! গরুটার দোষ কী!


গাইটার বুকের নিচ দিকে দু’দিক থেকে দু’হাত ঢুকিয়ে শরীরের সবটুকু শক্তি প্রয়োগ করে উঠাতে চেষ্টা করলাম। গাইটা ঘাড় ঘুরিয়ে আবার তাকালো। এখন আর ওর চোখে অবিশ্বাস নেই।ডাগরকালো দুটিচোখে নির্ভরতার সুস্পষ্ট ছায়া আমাকে কেমন যেন আশ্বস্ত করলো। পেছনের দু’টো পায়ে ভর দিয়ে গাইটি আমাকে সাহায্য করতে লাগলো। যৌথ প্রচেষ্টায় উঠে দাঁড়ালো।আমার বুকের গভীর থেকে অবচেতনভাবেই বেরিয়ে এলো স্বস্তির বর্ণমালা-

আলহামদুলিল্লাহ! গাইটার পিঠের লোমগুলো খাড়া হয়ে আছে ভীতির প্রতীক হয়ে। ইচ্ছে হলো হাত বুলিয়ে দিই। কিন্তু গাইটার অভিমান যেন উতলে ওঠে। আমাকে সুযোগ না দিয়ে দ্রুত নেমে গেল রাস্তায়। আমি বোধহীনতার ভেতরে ডুবে যেতে থাকি। নিজেকে এখন আর মানুষ বিবেচনা করতে পারছি না। স্রেফ একটা দ্বিপদী জানোয়ার মনে হচ্ছে নিজেকে। গরুও যেন আমার চেয়েও উৎকৃষ্টতর।


পশ্চিমাকাশে সূর্য হেলে পড়েছে। দিনান্তের কোলাহলে ব্যস্ত পৃথিবী। ইফতারি তৈরীর আয়োজনে ব্যস্ত ফারহানা-আমার স্ত্রী। শুধু আমার কোন ব্যস্ততা নেই। মহা নিস্তব্ধতায় আমি বিলীন হয়ে আছি। আমি রোযাদার। আসলেও কি তাই! যদি তাই হত; তবে এমন অমানবিক সংযমহীনতার ঘটনা ঘটালাম কীভাবে! মানুষের স্রষ্টা আল্লাহ তো বছরে একটি মাস রোযাকে ফরজ করেছেন এজন্যে যে, আত্মসংযমের বাস্তব প্রশিক্ষণে অভ্যস্ত হয়ে মানুষ বস্তুগত চাহিদার ওপর আত্মিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করবে। ভোগ-উপভোগের উন্মত্ততা বা লোভ-লালসা আর হিংস্রতা থেকে আমিত্বকে বর্জন করবে—অবমুক্ত করে আত্মশুদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে। ঘটাবে আধ্যাত্মিক ও মানবিক উন্নয়ন।

এই কি আমার আত্মসংযমের নমুনা! একটা নির্বোধ পশুর ওপর আমি আমার আক্রোশকে প্রতিরোধ করতে পারি নি! পারি নি জালিম হাতটিকে ফেরাতে! আমি রোযাদার-সংযমসাধনাকারী! অথচ আল্লাহ একমাসের নৈতিক প্রশিক্ষণ দিয়ে বাকি এগারোটি মাস চালাতে চান—দেখতে চান তাঁর অনুগত মানুষের সংযমী-সুশৃঙ্খল দিনযাপন। ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের নৈতিক বিকাশ—শৃঙ্খলা ও সংগঠন। মানবতা, সাম্য ও শান্তির পরিবেশ সংরক্ষণ। আর আমি তাঁর এমন নালায়েক বান্দা—এগার মাস তো দূরের কথা, প্রত্যক্ষভাবে রোযাদার থেকেও এমন স্বেচ্ছাচারিতা কীভাবে করতে পারলাম! কোন মুখে আজ ইফতার করবো!


মাগরিবের পর সচকিত হই। চারদিক থেকে মসজিদের মাইকে ভেসে আসছে কুরআন তিলাওয়াত। হায় আল্লাহ আজ তো শবেকদর! কুরআন নাযিলের রাত। মনটা আবারো দ্বিতীয়বারের মত মরে গেল! এমন দিনে আমি——! আক্ষেপ, অনুশোচনা আর গ্লানিতে আমার পুরোটা অস্তিত্ব বিধ্বস্ত। সালাতে সিজদায় চোখ বন্ধ হয়ে যায় লজ্জায়। কিন্তু আল্লাহর চোখকে ফাঁকি দেবার সামর্থ্য কি কারো আছে! কিন্তু তিনিই তো একক ও চুড়ান্ত অভিভাবক। অতএব, লজ্জার মাথা খেয়ে তাঁরই কাছে আশ্রয় চাই। বলি,”আল্লাহ তুমি তো রাহমানুর রাহিম! তুমি আমাকে মাফ করে দাও।

আমার পেরেশানি দূর করে দাও। একবার, শতবার, হাজারবার। উচ্চারণে,অনুচ্চারণে। সারা রাত। আমি আশঙ্কিত। গাইটা আর ভুলেও আমার বাড়িমুখো হবে না! আহা যদি আসতো! আয়েশ করে ঘাস খেতো! আমার সকল পেরেশানি দূর হয়ে যেত। আর আমি নিজেকে পাপমুক্ত ভাবার অবকাশ পেয়ে যেতাম। আবারও লুটিয়ে পড়ি সিজদায়।”হে আল্লাহ! তুমি তো তোমার রাহমাত হতে নিরাশ হতে নিষেধ করেছো। হাজার রাতের চেয়ে উত্তম এ-কদরের রাতে আমাকে তুমি ফিরিয়ে দিও না প্রভু! অন্তত একটিবার গাইটাকে ফিরিয়ে দাও আমারই প্রাঙ্গনে। আত্মগ্লানি থেকে মুক্তি দাও আমাকে!


পরদিন। সকাল দশটায় ঘুম ভাঙ্গে। ফজরের নামাজ শেষে ঘুমিয়েছি। বিশেষ কাজে শহরে যেতে হবে। দ্রুত প্রস্তুতি নিয়ে বেরিয়ে পড়ি। উঠোনে পা দিয়েই মনে পড়ে আগের দিনের কথা। বিষন্নভাবে হাঁটতে থাকি। যেই বাংলোঘরটা পেরিয়েছি অমনি বিস্ময়-আনন্দে আমার বুক ফেটে যায়। লাল গাইটা খুব কাছেই নাক ডুবিয়েছে তাজাঘাসে। একা। এই অসময়ে! মোটেও দৃষ্টিভ্রম নয়। নিখাদ বাস্তব। আমার অস্তিত্ব টের পেয়ে এক পলক তাকাল। ডাগর চোখে। পালালো না। আবার তাজাঘাসে নাক ডুবিয়ে দিলো। আমার কৃতজ্ঞ সত্তা আলোর গতির চেয়েও দ্রুত উড়ে চললো আল্লাহর আরশমুখী।

About banglaparisworld

Check Also

রাতারগুল

আবদুল হকবাংলা প্যারিস ওয়ার্ল্ড: ১৯/০১/২০২০ রাতারগুল বাংলাদেশের একমাত্র সোয়াম্প ফরেস্ট—মিঠেপানির জলাবন। বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে বিচিত্র …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *