Breaking News
Home / শিল্প ও সাহিত্য / রাতারগুল

রাতারগুল

আবদুল হক



বাংলা প্যারিস ওয়ার্ল্ড: ১৯/০১/২০২০


রাতারগুল বাংলাদেশের একমাত্র সোয়াম্প ফরেস্ট—মিঠেপানির জলাবন। বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে বিচিত্র রকমের বয়েসি বৃক্ষরাজি দাঁড়িয়ে আছে কোমরপানিতে, শত শত বছর ধরে। ডালপালা এমনই ঘন আর বিস্তৃত, আকাশ প্রায় দেখাই যায় না। যেন এক বিশাল সবুজ প্রাকৃতিক চাঁদোয়া। সেই প্রাকৃতিক চাঁদোয়া জুড়ে ঝপঝপ করে লাফিয়ে বেড়াচ্ছে বানর, কাঠবেড়ালি; সরসর করে ছুটেছে সাপ; কোনো কোনো গাছের সবুজ মাথা ধবল করে বসেছে বকের হাট; এছাড়াও বুনোহাঁস, গাঙচিল, মাছরাঙা, ঘুঘু, শালিক প্রভৃতি নানারকম পাখির অভয়ারণ্য এই রাতারগুল।

পানির মৌসুমে, বনে ঢুকতে হয় নৌকোয় চেপে। ছোট ডিঙিনৌকো বা কোশানৌকো। যত ভেতরে যাবেন, ততই ঘন সবুজ, ততই নিবিড় প্রকৃতি। অদ্ভুত আলো-অন্ধকারের খেলা। জলের আয়নায় সবুজ চাঁদোয়া প্রতিবিম্বিত। ফলে মনে হয় কেমন সবুজ সবুজ অন্ধকার। এগোতে হয় ডালপালা দু’ হাতে সরিয়ে সরিয়ে। অরণ্যের এ আদিম চারিত্র্য দেখে একে তুলনা করা হয় আমাজন মহাবনের সঙ্গে। অবশ্য তুলনা না করলেও রাতারগুল অতুলনীয়। কারণ গোটা এশিয়া মহাদেশে এমন বন আছে মাত্র দু’টি: একটি শ্রীলঙ্কায় আর আরেকটি আমাদের এই রাতারগুল।

একদিকে তার স্রোতস্বিনী গুয়াইন নদী আর বাদবাকি তিন দিক বিল-হাওরে ঘেরা। বনে জারুল, হিজল আর করচ গাছই চোখে পড়ে বেশি, মাঝে মাঝে আছে বট আর অশ্বথ। আরও নাম-না-জানা কতশত গাছ। দক্ষিণ দিকটায় নিশ্ছিদ্র দেয়ালের মতো মুর্তা আর জালিবেতের দীর্ঘ বেষ্টনী। চারদিকে ধুধু জলরাশির মাঝখানে একটি প্রশান্ত সবুজ দ্বীপের মতো জেগে আছে এ জলাবন।

লেখক, আবদুল হক।।

About banglaparisworld

Check Also

ঘাসের ঘটনাবলি

বাংলা প্যারিস ওয়ার্ল্ড: ২২/০১/২০২০ ।। ছোটগল্প ।। ঘাসের ঘটনাবলি শিকদার মুহাম্মদ কিবরিয়াহ একটি য়্যুকেলিপ্টাস বৃক্ষের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *